ওয়েবসাইটের পূর্ণ মালিকানা মানে ডোমেইন, হোস্টিং, সোর্স কোড ও ডাটাবেস — এই চারটির আইনগত মালিকানা ও মূল লগইন ক্লায়েন্টের হাতে থাকা। ডেভেলপার কাজের জন্য সীমিত অ্যাক্সেস পাবেন, কিন্তু মালিক থাকবেন আপনি। এই শর্তগুলো মুখে নয়, কোটেশন বা চুক্তিতে লিখিত থাকতে হবে, যাতে vendor lock-in-এর ঝুঁকি না থাকে।
- ডোমেইন আপনার নাম ও ইমেইলে রেজিস্টার্ড হবে; রেজিস্ট্রার লগইন, DNS ও রিনিউ আপনার নিয়ন্ত্রণে।
- হোস্টিং/VPS আপনার নামের অ্যাকাউন্টে; ডেভেলপার শুধু ডেভেলপার অ্যাক্সেস পাবেন।
- সম্পূর্ণ, এডিটযোগ্য সোর্স কোড ও ডাটাবেস লঞ্চের দিন হস্তান্তর হবে — অন্য ডেভেলপার দিয়ে কাজ করানো ও অন্য সার্ভারে সরানোর অধিকারসহ।
- হ্যান্ডওভারে ডকুমেন্টেশন, API credentials, ব্যাকআপ ও ডেপ্লয়মেন্ট কনফিগারেশনও চেয়ে নিন।
- ডেভেলপার হস্তান্তর না করলে আগে ডোমেইন নিরাপদ করুন, লিখিত অনুরোধ পাঠান এবং চুক্তি-পেমেন্টের প্রমাণ গুছিয়ে রাখুন।
ওয়েবসাইটের পূর্ণ মালিকানা বলতে কী বোঝায়
পূর্ণ মালিকানা মানে ওয়েবসাইটের চারটি মূল অংশ — ডোমেইন, হোস্টিং, সোর্স কোড ও ডাটাবেস — আইনগত ও ব্যবহারিক দুইভাবেই আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকা। শুধু "সাইটটা আমার" বলা যথেষ্ট নয়; প্রতিটি অংশের লগইন, কপি এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আপনার হাতে থাকতে হবে।
অনেক ব্যবসায়ী মনে করেন, টাকা দিয়ে ওয়েবসাইট বানিয়েছি, তাই এটা আমারই। বাস্তবে ডোমেইন যদি ডেভেলপারের নামে রেজিস্টার্ড থাকে, হোস্টিং তার অ্যাকাউন্টে থাকে আর কোডের কোনো কপি আপনার কাছে না থাকে — তাহলে কাগজে-কলমে আপনি শুধু একজন ব্যবহারকারী। নিচের টেবিলে প্রতিটি অংশের মালিকানা কেমন হওয়া উচিত তা দেখুন।
| অংশ | এটা কী | মালিকানা মানে | প্রমাণ কী |
|---|---|---|---|
| ডোমেইন | আপনার ওয়েবসাইটের ঠিকানা (যেমন yourshop.com) | রেজিস্ট্র্যান্ট হিসেবে আপনার বা আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম ও ইমেইল | রেজিস্ট্রার অ্যাকাউন্টের লগইন আপনার কাছে, রিনিউ আপনি নিয়ন্ত্রণ করেন |
| হোস্টিং / VPS | যে সার্ভারে সাইটের ফাইল ও ডাটাবেস চলে | হোস্টিং অ্যাকাউন্ট আপনার নামে, বিল আপনার নামে | কন্ট্রোল প্যানেল (যেমন cPanel) বা VPS প্যানেলের মূল লগইন আপনার |
| সোর্স কোড | ওয়েবসাইটের সব প্রোগ্রাম ফাইল | পূর্ণ, এডিটযোগ্য কোড ব্যবহার, পরিবর্তন ও অন্যকে দিয়ে কাজ করানোর অধিকার | সম্পূর্ণ কোডের কপি (zip বা Git রিপোজিটরি) আপনার কাছে |
| ডাটাবেস | প্রোডাক্ট, অর্ডার, কাস্টমার, রিপোর্টের সব তথ্য | সব ডাটা আপনার ব্যবসার সম্পদ, যেকোনো সময় এক্সপোর্ট করার অধিকার | ডাটাবেস এক্সপোর্ট ফাইল ও ডাটাবেস লগইন |
এর বাইরে আরও কিছু জিনিস আছে যেগুলোও আপনার নামে থাকা উচিত: পেমেন্ট গেটওয়ে মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট, কুরিয়ার মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট ও তাদের API credentials, ব্যবসার ইমেইল, Google Search Console এবং সোশ্যাল মিডিয়া পেজ। এগুলো অন্যের নামে থাকলে পরে টাকা সরাসরি আপনার অ্যাকাউন্টে আসা বা ডাটা নেওয়া নিয়ে জটিলতা হয়।
ভেন্ডর লক-ইন কী এবং কেন এটা বড় ঝুঁকি
ভেন্ডর লক-ইন (vendor lock-in) হলো এমন অবস্থা, যেখানে একজন নির্দিষ্ট ডেভেলপার বা কোম্পানিকে ছাড়া আপনি নিজের ওয়েবসাইট চালাতে, বদলাতে বা সরাতে পারেন না। তখন দাম, সার্ভিসের মান আর সময় — সবকিছুই তাদের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে।
লক-ইনের ফলে বাস্তবে যে সমস্যাগুলো দেখা দেয়:
- রিনিউ খরচ ইচ্ছেমতো বাড়ানো: ডোমেইন-হোস্টিং ডেভেলপারের হাতে থাকলে প্রতি বছর তারা যা চাইবে তা-ই দিতে হয়।
- ডেভেলপার যোগাযোগ বন্ধ করলে সাইট বন্ধ: রিনিউ না হলে ডোমেইন এক্সপায়ার হয়, সাইট অফলাইন হয়ে যায়, এমনকি ডোমেইন হাতছাড়াও হতে পারে।
- অন্য ডেভেলপার দিয়ে কাজ করানো যায় না: কোড না থাকলে নতুন ফিচার, বাগ ফিক্স বা ডিজাইন বদলের জন্য পুরনো ডেভেলপারের কাছেই ফিরতে হয়।
- ডাটা আটকে যায়: বছরের পর বছর জমানো কাস্টমার ও অর্ডারের তথ্য নিয়ে নতুন প্ল্যাটফর্মে যাওয়া যায় না।
- বিরোধ হলে দর-কষাকষির ক্ষমতা থাকে না: বিল বা কাজ নিয়ে মতবিরোধ হলে সাইট বন্ধ করে দেওয়ার ভয় দেখানো সম্ভব হয়।
"ডোমেইন-হোস্টিং আমরাই দেখব, আপনাকে কিছু ভাবতে হবে না" — শুনতে আরামদায়ক হলেও এর মানে প্রায়ই নিয়ন্ত্রণ অন্যের হাতে চলে যাওয়া। ডেভেলপার ব্যবস্থাপনা করতে পারেন, কিন্তু মালিকানা ও মূল লগইন থাকবে আপনার।
কোন কোন জায়গায় অজান্তে মালিকানা হারিয়ে যায়
বেশিরভাগ মালিকানা-সমস্যা শুরুতে চোখে পড়ে না; ধরা পড়ে যখন ডেভেলপার বদলাতে চান বা কোনো বিরোধ হয়। কোটেশন সই করার আগেই নিচের বিষয়গুলো পরিষ্কার করে নিন।
- ডোমেইন ডেভেলপারের নামে বা তার ইমেইলে রেজিস্টার্ড: সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা। নিজের নামে কীভাবে নেবেন তা ধাপে ধাপে আছে আমাদের ডোমেইন ও হোস্টিং নিজের নামে নেওয়ার গাইডে।
- রিসেলার হোস্টিংয়ের ভেতরে আপনার সাইট: ডেভেলপারের একটা বড় হোস্টিং অ্যাকাউন্টে অনেক ক্লায়েন্টের সাইটের সাথে আপনারটাও রাখা — আলাদা করে বের করা কঠিন।
- "লাইসেন্স" দেওয়া, কোড নয়: কোনো কোনো চুক্তিতে লেখা থাকে আপনি শুধু সফটওয়্যার "ব্যবহারের লাইসেন্স" পাচ্ছেন — কোডের মালিকানা ডেভেলপারের।
- এনক্রিপ্টেড বা অসম্পূর্ণ কোড: কোড দেওয়া হলেও কিছু অংশ লক করা বা গুরুত্বপূর্ণ ফাইল বাদ — অন্য কেউ এডিট করতে পারে না।
- মাসিক ভাড়ার প্ল্যাটফর্ম: কিছু প্ল্যাটফর্মে মাসিক ফি দিয়ে দোকান চালানো যায়; এটা খারাপ নয়, তবে সেখানে আপনি সাধারণত কোড পান না এবং ফি বন্ধ করলে সাইটও বন্ধ। এটা জেনে-বুঝে বেছে নিন — তুলনা দেখুন Shopify বনাম কাস্টম ই-কমার্স লেখায়।
- পেমেন্ট ও কুরিয়ার অ্যাকাউন্ট ডেভেলপারের নামে: তখন টাকা বা পার্সেলের তথ্য তার অ্যাকাউন্ট হয়ে আসে।
- ডাটাবেস এক্সপোর্টের সুযোগ নেই: অ্যাডমিন প্যানেল থেকে বা সার্ভার থেকে ডাটা বের করার কোনো উপায় রাখা হয়নি।
কোটেশন ও চুক্তিতে কোন কোন ধারা লিখিয়ে নেবেন
মুখের কথা নয়, মালিকানার শর্ত কোটেশন বা চুক্তিপত্রে লিখিতভাবে থাকতে হবে। নিচে কয়েকটি নমুনা ধারা দেওয়া হলো — নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী বদলে নিতে পারেন।
নমুনা ধারা (বাংলায়)
- ডোমেইন: "ওয়েবসাইটের ডোমেইন ক্লায়েন্টের নাম ও ক্লায়েন্টের ইমেইল ঠিকানায় রেজিস্টার করা হবে। রেজিস্ট্রার অ্যাকাউন্টের লগইন, পাসওয়ার্ড, DNS ও রিনিউয়ালের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ক্লায়েন্টের থাকবে।"
- হোস্টিং: "হোস্টিং বা VPS ক্লায়েন্টের নামে ও ক্লায়েন্টের অ্যাকাউন্টে খোলা হবে। ডেভেলপার শুধু ডেপ্লয়মেন্ট ও সাপোর্টের জন্য ডেভেলপার অ্যাক্সেস ব্যবহার করবে।"
- সোর্স কোড: "প্রকল্পের সম্পূর্ণ, এডিটযোগ্য সোর্স কোড ক্লায়েন্টের সম্পত্তি এবং লঞ্চের সময় হস্তান্তর করা হবে। ক্লায়েন্ট কোডটি পরিবর্তন, নতুন ফিচার যোগ এবং অন্য যেকোনো ডেভেলপার দিয়ে কাজ করাতে পারবে।"
- ডাটাবেস: "ওয়েবসাইটের সব ডাটা ক্লায়েন্টের। লঞ্চের সময় এবং ক্লায়েন্ট চাইলে যেকোনো সময় ডাটাবেসের পূর্ণ এক্সপোর্ট দেওয়া হবে।"
- মাইগ্রেশন: "ক্লায়েন্ট যেকোনো সময় ওয়েবসাইট অন্য সার্ভার বা হোস্টিং প্রোভাইডারে সরিয়ে নিতে পারবে; এতে ডেভেলপার কোনো বাধা দেবে না।"
- হস্তান্তর তালিকা: "লঞ্চের সময় নিম্নলিখিত জিনিসগুলো হস্তান্তর করা হবে: …" — এখানে পুরো তালিকা লিখুন (নিচের হ্যান্ডওভার অংশ দেখুন)।
- থার্ড-পার্টি অংশ: "ওয়েবসাইটে কোনো পেইড থিম, প্লাগইন বা প্যাকেজ ব্যবহার হলে তার লাইসেন্স কার নামে এবং রিনিউ খরচ কত, তা আগে জানানো হবে।"
বড় অঙ্কের প্রকল্প বা জটিল চুক্তি হলে একজন আইনজীবীকে দিয়ে চুক্তিপত্র একবার দেখিয়ে নেওয়া ভালো। এখানে দেওয়া ধারাগুলো সাধারণ নির্দেশনা, আইনি পরামর্শ নয়।
পুরো কোটেশনে আর কী কী থাকা উচিত — ফিচার, সাপোর্ট, খরচ — তার পূর্ণ তালিকা পাবেন ই-কমার্স ওয়েবসাইটের রিকোয়ারমেন্ট চেকলিস্টে।
মাইগ্রেশন ও অন্য ডেভেলপার নিয়োগের অধিকার
মালিকানার আসল পরীক্ষা হয় তখন, যখন আপনি সার্ভার বা ডেভেলপার বদলাতে চান। আপনার কাছে কোড, ডাটাবেস আর সব লগইন থাকলে নতুন যেকোনো দক্ষ ডেভেলপার কাজটা হাতে নিতে পারেন।
মাইগ্রেশনের অধিকার কাজে লাগে এমন কয়েকটি পরিস্থিতি:
- ব্যবসা বড় হয়েছে, শেয়ার্ড হোস্টিং থেকে VPS-এ যেতে চান।
- বর্তমান হোস্টিংয়ে স্পিড বা সাপোর্ট ভালো লাগছে না।
- নতুন ফিচারের জন্য অন্য কোনো ডেভেলপার বা নিজের ইন-হাউস টিম রাখতে চান।
- পুরনো ডেভেলপার আর কাজ করছেন না বা যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
মাইগ্রেশন সহজ করতে লঞ্চের সময়ই দুটো জিনিস চেয়ে নিন: ডকুমেন্টেশন (সাইট কী প্রযুক্তিতে তৈরি, কীভাবে ইনস্টল করতে হয়, কোন সার্ভিস কোথায় যুক্ত) এবং ডেপ্লয়মেন্ট কনফিগারেশন (সার্ভার সেটিংস, environment ফাইলের কাঠামো ইত্যাদি)। এগুলো না থাকলে কোড হাতে থাকলেও নতুন ডেভেলপারের সময় ও খরচ বেশি লাগে।
নিয়মিত ব্যাকআপও মাইগ্রেশনের ভিত্তি — ব্যাকআপ কোথায় থাকে এবং আপনি নিজে ডাউনলোড করতে পারেন কি না, তা জানতে পড়ুন ওয়েবসাইট ব্যাকআপ গাইড।
হস্তান্তর পাওয়ার অধিকার: চুক্তিতে কী কী তালিকাভুক্ত করবেন
চুক্তিতে শুধু "সবকিছু হস্তান্তর করা হবে" লিখলে পরে তর্কের সুযোগ থাকে; প্রতিটি জিনিসের নাম আলাদা করে লিখুন। যা তালিকায় নেই, তা দাবি করা কঠিন।
মালিকানার দিক থেকে হস্তান্তর তালিকায় অন্তত এগুলো থাকা উচিত: লাইভ ওয়েবসাইট ও অ্যাডমিন প্যানেল, অ্যাডমিন credentials, ডোমেইন ও হোস্টিং অ্যাক্সেস, সম্পূর্ণ সোর্স কোড, ডাটাবেস, ডকুমেন্টেশন, পেমেন্ট ও কুরিয়ারের API credentials, ব্যাকআপ এবং ডেপ্লয়মেন্ট কনফিগারেশন। সাথে লিখুন কবে হস্তান্তর হবে — যেমন "লঞ্চের দিন" বা "চূড়ান্ত পেমেন্টের সাথে সাথে"।
লঞ্চের দিন এগুলো একে একে কীভাবে বুঝে নেবেন, নিজে যাচাই করবেন এবং পাসওয়ার্ড বদলাবেন — সেই হাতে-কলমে তালিকা আছে আমাদের ওয়েবসাইট হস্তান্তর চেকলিস্টে।
EOMS BD যেভাবে করে: ১৫ বছরের ই-কমার্স কাজের অভিজ্ঞতায় আমরা মালিকানার শর্ত শুরুতেই কোটেশন ও চুক্তিতে লিখে দিই। ডোমেইন রেজিস্টার হয় ক্লায়েন্টের নাম ও ইমেইলে; হোস্টিং/VPS খোলা হয় ক্লায়েন্টের অ্যাকাউন্টে, আমরা শুধু ডেভেলপার অ্যাক্সেস দিয়ে ডেপ্লয় করি। সম্পূর্ণ সোর্স কোড ও ডাটাবেস ক্লায়েন্টের — অন্য ডেভেলপার নিয়োগ, পরিবর্তন বা অন্য সার্ভারে সরানোর পূর্ণ স্বাধীনতা থাকে, কোনো vendor lock-in নেই। লঞ্চে লাইভ সাইট, অ্যাডমিন প্যানেল, ডোমেইন ও হোস্টিং অ্যাক্সেস, সোর্স কোড, ডাটাবেস, ডকুমেন্টেশন, অ্যাডমিন ও API credentials, ব্যাকআপ এবং ডেপ্লয়মেন্ট কনফিগারেশন হস্তান্তর করা হয়।
ডেভেলপার হস্তান্তর করতে না চাইলে কী করবেন
প্রথমে শান্তভাবে লিখিত অনুরোধ করুন, তারপর ধাপে ধাপে এগোন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বকেয়া বিল বা ভুল বোঝাবুঝি মিটলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।
- নিজের হাতে কী আছে তা দেখুন: ডোমেইন কার নামে রেজিস্টার্ড (WHOIS চেক), হোস্টিংয়ের বিল কে দেয়, কোনো লগইন আপনার কাছে আছে কি না — তালিকা করুন।
- বকেয়া হিসাব মিলিয়ে নিন: চুক্তি অনুযায়ী কোনো পেমেন্ট বাকি থাকলে তা পরিষ্কার করুন। নিজের দিকটা ঠিক থাকলে আলোচনায় আপনার অবস্থান শক্ত হয়।
- লিখিত অনুরোধ পাঠান: ইমেইল বা WhatsApp-এ নির্দিষ্ট করে লিখুন কী কী চান (ডোমেইন ট্রান্সফার/অথ কোড, হোস্টিং অ্যাক্সেস, কোড, ডাটাবেস) এবং একটি যুক্তিসঙ্গত সময়সীমা দিন।
- চুক্তি ও পেমেন্টের প্রমাণ গুছিয়ে রাখুন: কোটেশন, ইনভয়েস, পেমেন্ট রসিদ, আলাপের স্ক্রিনশট — সব এক জায়গায় রাখুন।
- ডোমেইন আগে নিরাপদ করুন: ডোমেইন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটা হারালে ব্র্যান্ড হারান। রেজিস্ট্রারের সাপোর্টে যোগাযোগ করে তাদের নিয়মে মালিকানা প্রমাণের প্রক্রিয়া জেনে নিন।
- ডাটা যতটুকু পারেন বাঁচান: অ্যাডমিন প্যানেলে অ্যাক্সেস থাকলে প্রোডাক্ট, অর্ডার ও কাস্টমারের তালিকা এক্সপোর্ট করে রাখুন।
- প্রয়োজনে আইনি পরামর্শ নিন: লিখিত চুক্তি থাকলে একজন আইনজীবীর পরামর্শে আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠানোর কথা ভাবতে পারেন।
- শেষ উপায় — নতুন করে শুরু: কোড পাওয়া একেবারেই সম্ভব না হলে, ডোমেইন ও ডাটা নিরাপদ করে নতুন ডেভেলপার দিয়ে সাইট আবার তৈরি করাই অনেক সময় দ্রুত সমাধান।
ডোমেইনের রিনিউ তারিখ পার হতে দেবেন না। মালিকানা নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যে ডোমেইন এক্সপায়ার হলে তা ফেরত পেতে বাড়তি খরচ লাগতে পারে, এমনকি অন্য কেউ নিবন্ধন করে ফেলতে পারে।
মালিকানা হাতে রেখেও কীভাবে ডেভেলপারের সাপোর্ট নেবেন
নিজের নামে সব রাখা মানে ডেভেলপারকে অবিশ্বাস করা নয়। মালিক আপনি, আর ডেভেলপার সীমিত অ্যাক্সেস নিয়ে কাজ করবেন — এটাই পেশাদার ও স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক।
- মূল লগইন আপনার কাছে রাখুন, ডেভেলপারকে আলাদা ইউজার বা সীমিত অ্যাক্সেস দিন।
- সাপোর্ট ও মেইনটেন্যান্সের শর্ত আলাদা করে লিখুন: ফ্রি সাপোর্ট কতদিন, বাগ ফিক্স কতদিন, বছরে মেইনটেন্যান্স খরচ কত — এগুলো আলাদা ধারা হিসেবে চুক্তিতে রাখুন।
- কাজ শেষে অ্যাক্সেস পর্যালোচনা করুন: কোনো ডেভেলপার আর কাজ না করলে তার অ্যাক্সেস বন্ধ করুন এবং পাসওয়ার্ড বদলান।
- রিনিউ খরচ আগে থেকে জেনে নিন: ডোমেইন ও হোস্টিং আপনার নামে থাকলে রিনিউয়ের বিল আপনিই দেবেন — প্রথম বছর ও পরের বছরের খরচ আলাদা হয়, তা জানতে দেখুন ই-কমার্স ওয়েবসাইটের মোট খরচ।
মনে রাখবেন, মালিকানা আপনার হাতে থাকলে ডেভেলপার বদলানো একটা সাধারণ ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত মাত্র — সংকট নয়।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ওয়েবসাইট বানানোর পর সোর্স কোড কি ক্লায়েন্টের পাওয়া উচিত?
হ্যাঁ, কাস্টম ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ও এডিটযোগ্য সোর্স কোড ক্লায়েন্টের পাওয়া উচিত, যদি না চুক্তিতে অন্য কিছু লেখা থাকে। কোড হাতে না থাকলে অন্য ডেভেলপার দিয়ে কাজ করানো বা সার্ভার বদলানো কঠিন হয়ে যায়। তাই কাজ শুরুর আগেই কোটেশনে কোড হস্তান্তরের শর্ত লিখিয়ে নিন।
ডেভেলপারের নামে ডোমেইন থাকলে কী সমস্যা হতে পারে?
ডোমেইনের আইনগত মালিক তখন ডেভেলপার, আপনি নন। তিনি রিনিউ না করলে সাইট বন্ধ হয়ে যেতে পারে, আর সম্পর্ক খারাপ হলে ডোমেইন ফেরত পাওয়া কঠিন হতে পারে। যত দ্রুত সম্ভব ডোমেইন নিজের নাম ও ইমেইলে নিয়ে নেওয়াই নিরাপদ।
vendor lock-in কীভাবে বুঝব?
নিজেকে প্রশ্ন করুন: আজ যদি ডেভেলপার যোগাযোগ বন্ধ করে দেন, আমি কি নিজের ডোমেইন রিনিউ করতে, হোস্টিংয়ে ঢুকতে এবং অন্য কাউকে দিয়ে সাইটের কাজ করাতে পারব? উত্তর 'না' হলে আপনি লক-ইনে আছেন। সমাধান হলো সব লগইন, কোড ও ডাটাবেসের কপি নিজের কাছে আনা।
মাসিক ফি-ভিত্তিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করলে কি মালিকানা থাকে?
এ ধরনের প্ল্যাটফর্মে সাধারণত দোকানের ডাটা আপনার থাকে, কিন্তু সোর্স কোড আপনি পান না এবং ফি বন্ধ করলে সাইট চলে না। শুরু করার জন্য এটা সুবিধাজনক হতে পারে। শুধু জেনে নিন ডাটা এক্সপোর্ট করা যায় কি না এবং ডোমেইন আপনার নিজের নামে থাকছে কি না।
নিজের নামে সব নিলে কি ডেভেলপার সাপোর্ট দিতে পারবেন?
অবশ্যই পারবেন। আপনি মূল অ্যাকাউন্টের মালিক থাকবেন এবং ডেভেলপারকে আলাদা ইউজার বা সীমিত অ্যাক্সেস দেবেন। এতে সাপোর্টও চলবে, নিয়ন্ত্রণও আপনার হাতে থাকবে।
পুরনো ডেভেলপার কোড না দিলে কি নতুন করে সাইট বানাতে হবে?
সবসময় নয়। আগে লিখিত অনুরোধ ও বকেয়া হিসাব মিলিয়ে আলোচনার চেষ্টা করুন; অনেক ক্ষেত্রে এতেই সমাধান হয়। একেবারে সম্ভব না হলে ডোমেইন ও অ্যাডমিন প্যানেল থেকে ডাটা নিরাপদ করে নতুন সাইট বানানোই অনেক সময় দ্রুত ও কম ঝামেলার পথ।