Home›ই-কমার্স গাইড›ডোমেইন ও হোস্টিং নিজের নামে কীভাবে নেবেন
ই-কমার্স গাইড · ডোমেইন ও হোস্টিং

ডোমেইন ও হোস্টিং নিজের নামে কীভাবে নেবেন

ডোমেইন কেনা থেকে শুরু করে DNS, অটো-রিনিউ, ডেভেলপারকে নিরাপদে অ্যাক্সেস দেওয়া আর ডেভেলপারের নামে থাকা ডোমেইন নিজের নামে আনা — ধাপে ধাপে, সহজ ভাষায়।

আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ লিখেছে: EOMS BD টিম পড়তে ~7 মিনিট
সংক্ষেপে উত্তর

ডোমেইন ও হোস্টিং নিজের নামে নিতে নিজের ব্যবসার ইমেইল দিয়ে রেজিস্ট্রার ও হোস্টিং কোম্পানিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন, রেজিস্ট্র্যান্ট হিসেবে নিজের নাম দিন এবং নিজের পেমেন্টে কিনুন। এরপর ডেভেলপারকে মূল পাসওয়ার্ড না দিয়ে আলাদা বা সীমিত অ্যাক্সেস দিন। ডোমেইন ডেভেলপারের নামে থাকলে একই রেজিস্ট্রারে push করিয়ে বা EPP/Auth code দিয়ে ট্রান্সফার করে নিজের অ্যাকাউন্টে আনা যায়।

  • নাম ও ইমেইল দুটোই আপনার হতে হবে — ইমেইল যার, পাসওয়ার্ড রিসেটের নিয়ন্ত্রণ তার।
  • কেনার পরই অটো-রিনিউ, রেজিস্ট্রার লক ও 2FA চালু করুন।
  • WHOIS লুকআপে রেজিস্ট্রার ও মেয়াদ দেখুন; নিশ্চিত প্রমাণ হলো নিজের প্যানেলে লগইন করে ডোমেইন দেখা।
  • ডেভেলপারকে sub-user/delegate বা আলাদা FTP/SSH ইউজার দিন, কাজ শেষে পাসওয়ার্ড বদলান।
  • .com ডোমেইন সাধারণত বছরে ৳১,৫০০–২,০০০ এর মতো; রিনিউ দাম আগে দেখে নিন।

কেন ডোমেইন ও হোস্টিং নিজের নাম ও নিজের ইমেইলে নেবেন

ডোমেইন যার নাম ও ইমেইলে রেজিস্টার্ড, আইনগতভাবে মালিক তিনিই; আর অ্যাকাউন্টের ইমেইল যার, পাসওয়ার্ড রিসেট ও রিনিউয়ের নোটিশও যায় তার কাছে। তাই নাম আর ইমেইল — দুটোই আপনার হতে হবে।

অনেকে নিজের নাম দেন কিন্তু ইমেইল দেন ডেভেলপারের। তাতে কাগজে মালিক আপনি হলেও বাস্তব নিয়ন্ত্রণ চলে যায় অন্যের হাতে, কারণ পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে রিসেট লিংক যাবে সেই ইমেইলে। মালিকানার অধিকার ও চুক্তির দিকটা নিয়ে বিস্তারিত আছে ওয়েবসাইটের মালিকানা গাইডে; এই লেখায় শুধু হাতে-কলমে কাজগুলো দেখানো হলো।

ব্যবসার জন্য আলাদা একটা Gmail খুলে নিন (যেমন yourshop.admin@gmail.com) এবং সেখানে 2-Step Verification চালু করুন। ডোমেইন, হোস্টিং, পেমেন্ট গেটওয়ে, কুরিয়ার — সব অ্যাকাউন্ট এই ইমেইলে খুলুন। ব্যক্তিগত ইমেইল আর কর্মচারীর ইমেইল এড়িয়ে চলুন।

রেজিস্ট্রারে অ্যাকাউন্ট খুলে নিজের নামে ডোমেইন কেনার ধাপ

ডোমেইন কিনতে হয় কোনো ডোমেইন রেজিস্ট্রার (যেমন Namecheap) বা দেশি রিসেলারের কাছ থেকে। প্রক্রিয়াটা অনলাইনে ১৫–২০ মিনিটের কাজ, নিজে করলেই সবচেয়ে নিরাপদ।

  1. রেজিস্ট্রার বাছাই করুন: পরিচিত, নির্ভরযোগ্য রেজিস্ট্রার বা দেশি প্রোভাইডার বেছে নিন, যাদের প্যানেলে আপনি নিজে লগইন করতে পারবেন। প্রথম বছর ও রিনিউ — দুটোর দামই দেখে নিন, কারণ রিনিউ সাধারণত বেশি হয়।
  2. নিজের ইমেইলে অ্যাকাউন্ট খুলুন: ব্যবসার ইমেইল দিয়ে সাইন আপ করুন, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দিন এবং 2FA (টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন) থাকলে চালু করুন।
  3. ডোমেইন সার্চ করে কার্টে যোগ করুন: ছোট, উচ্চারণে সহজ, ব্র্যান্ডের সাথে মিলে এমন নাম নিন। হাইফেন ও সংখ্যা যত কম, তত ভালো।
  4. রেজিস্ট্র্যান্ট তথ্য সঠিকভাবে দিন: নাম (বা প্রতিষ্ঠানের নাম), ঠিকানা, ফোন ও ইমেইল — সব আপনার। ভুল বা অন্যের তথ্য দিলে পরে মালিকানা প্রমাণে সমস্যা হয়।
  5. পেমেন্ট করুন: কার্ড বা প্রোভাইডারের দেওয়া উপায়ে নিজের পেমেন্টে কিনুন, রসিদ সংরক্ষণ করুন।
  6. ইমেইল ভেরিফাই করুন: কেনার পর রেজিস্ট্রার একটা ভেরিফিকেশন ইমেইল পাঠায়; নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কনফার্ম না করলে ডোমেইন সাসপেন্ড হতে পারে।

খরচের ধারণা: একটি .com ডোমেইন সাধারণত বছরে ৳১,৫০০–২,০০০ এর মতো পড়ে; দাম রেজিস্ট্রার ও ডলার রেটের ওপর বদলায়। একটি সাম্প্রতিক বাস্তব কোটেশনে প্রথম বছর ৳১,৫০০ এবং দ্বিতীয় বছর থেকে রিনিউ ৳১,৮০০ ধরা হয়েছে। পুরো ওয়েবসাইটের প্রথম বছর ও পরের বছরের খরচ দেখতে পড়ুন ই-কমার্স ওয়েবসাইটের মোট খরচ।

.bd / .com.bd ডোমেইন: বাংলাদেশের নিজস্ব ডোমেইনের নিবন্ধন প্রক্রিয়া, কাগজপত্র ও সময় আলাদা। নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা অনুমোদিত প্রোভাইডারের কাছ থেকে বর্তমান নিয়ম জেনে নিন — এখানেও রেজিস্ট্র্যান্ট হিসেবে আপনার বা প্রতিষ্ঠানের নামই রাখবেন।

DNS ও নেমসার্ভার সহজ ভাষায়

DNS হলো ডোমেইনের "ঠিকানা-বই": কেউ yourshop.com লিখলে DNS বলে দেয় সাইটটি কোন সার্ভারে আছে। ডোমেইন থাকে রেজিস্ট্রারে, সাইট থাকে হোস্টিংয়ে — DNS এই দুটোকে জোড়া লাগায়।

  • নেমসার্ভার (Nameserver): হোস্টিং কোম্পানি আপনাকে দুটো নেমসার্ভার দেবে (যেমন ns1.example.com, ns2.example.com)। রেজিস্ট্রার প্যানেলে এগুলো বসালে ডোমেইন সেই হোস্টিংয়ের সাথে যুক্ত হয়।
  • A রেকর্ড: ডোমেইনকে সরাসরি সার্ভারের IP ঠিকানায় পাঠায় — VPS-এ সাধারণত এটা ব্যবহার হয়।
  • CNAME: একটা নামকে আরেকটা নামের দিকে পাঠায়, যেমন www.yourshop.com কে yourshop.com-এ।
  • MX রেকর্ড: ডোমেইনের ইমেইল (info@yourshop.com) কোথায় যাবে তা ঠিক করে।
  • TXT রেকর্ড: Google Search Console ভেরিফিকেশন, ইমেইল যাচাই (SPF ইত্যাদি) কাজে লাগে।

DNS বদলালে পুরোপুরি কার্যকর হতে কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা, কখনো কখনো ২৪–৪৮ ঘণ্টা লাগতে পারে। DNS আপনার রেজিস্ট্রার বা হোস্টিং প্যানেলেই থাকবে; ডেভেলপার পরিবর্তন করলে কী বদলেছেন তা জেনে রাখুন।

অটো-রিনিউ, রেজিস্ট্রার লক ও অ্যাকাউন্ট নিরাপত্তা

ডোমেইন কেনার পরই চারটি সেটিং চালু করুন: অটো-রিনিউ, রেজিস্ট্রার লক, 2FA এবং সঠিক রিকভারি তথ্য। এগুলো না থাকলে একটা ভুলে পুরো ব্যবসার ঠিকানা হারাতে পারেন।

  • অটো-রিনিউ চালু: অ্যাকাউন্টে বৈধ পেমেন্ট মেথড বা ব্যালান্স রাখুন। অটো-রিনিউ না থাকলে ক্যালেন্ডারে মেয়াদ শেষের অন্তত এক মাস আগে রিমাইন্ডার দিন।
  • একাধিক বছরের জন্য রিনিউ: সামর্থ্য থাকলে ২–৩ বছর একসাথে রিনিউ করে রাখলে ঝুঁকি কমে।
  • রেজিস্ট্রার লক / Transfer Lock চালু: এতে আপনার অনুমতি ছাড়া কেউ ডোমেইন অন্য রেজিস্ট্রারে সরাতে পারে না।
  • 2FA চালু: রেজিস্ট্রার ও হোস্টিং দুই অ্যাকাউন্টেই।
  • রিকভারি ইমেইল ও ফোন হালনাগাদ: পুরনো নম্বর বা বন্ধ ইমেইল থাকলে এখনই বদলান।
  • WHOIS Privacy: অনেক রেজিস্ট্রার বিনা খরচে বা অল্প খরচে আপনার ব্যক্তিগত ফোন-ঠিকানা পাবলিক তালিকা থেকে লুকিয়ে রাখে। এতে স্প্যাম কমে, মালিকানায় কোনো প্রভাব পড়ে না।

"আপনার ডোমেইন এক্সপায়ার হচ্ছে, এখনই এই লিংকে পেমেন্ট করুন" — এমন ইমেইল বা SMS পেলে লিংকে ক্লিক না করে সরাসরি নিজের রেজিস্ট্রার প্যানেলে লগইন করে মেয়াদ যাচাই করুন। ভুয়া রিনিউ নোটিশ বেশ প্রচলিত প্রতারণা।

ডোমেইন কার নামে আছে তা যাচাই করবেন কীভাবে

যেকোনো WHOIS বা RDAP লুকআপ টুলে ডোমেইনের নাম লিখলে রেজিস্ট্রার, মেয়াদ শেষের তারিখ ও স্ট্যাটাস দেখা যায়। আর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হলো — আপনি নিজে রেজিস্ট্রার প্যানেলে লগইন করে ডোমেইনটি নিজের অ্যাকাউন্টে দেখতে পাচ্ছেন কি না।

  1. কোনো WHOIS লুকআপ সাইটে (অথবা রেজিস্ট্রারের নিজস্ব WHOIS পেজে) ডোমেইন লিখে সার্চ করুন।
  2. Registrar অংশে দেখুন ডোমেইন কোন কোম্পানিতে আছে।
  3. Expiry Date দেখে নিন মেয়াদ কবে শেষ।
  4. Registrant অংশে নাম বা প্রতিষ্ঠান দেখুন। Privacy চালু থাকলে এখানে "Redacted" বা প্রাইভেসি সার্ভিসের নাম দেখাবে — সেটা স্বাভাবিক।
  5. Privacy থাকলে রেজিস্ট্রার প্যানেলে লগইন করে Contact / Registrant তথ্যে নিজের নাম ও ইমেইল আছে কি না যাচাই করুন।
  6. লগইন না থাকলে ডেভেলপারের কাছে অ্যাকাউন্টের অ্যাক্সেস বা স্ক্রিনশট চান; গড়িমসি করলে নিচের ট্রান্সফার অংশ দেখুন।

হোস্টিং বা VPS নিজের অ্যাকাউন্টে খোলার নিয়ম

হোস্টিং কোম্পানির ওয়েবসাইটে নিজের ব্যবসার ইমেইল দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে প্ল্যান কিনুন — বিলিং প্রোফাইল ও ইনভয়েস যেন আপনার নামে থাকে। ডেভেলপার কোন প্ল্যান লাগবে তা বলে দিতে পারেন, কিন্তু কেনাটা হবে আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে।

বিষয়শেয়ার্ড হোস্টিং (cPanel)VPS
কার জন্যনতুন বা ছোট দোকান, কম ট্রাফিকবেশি প্রোডাক্ট, বেশি অর্ডার, বেশি ট্রাফিক
নিজের নামে নেওয়াহোস্টিং কোম্পানিতে আপনার অ্যাকাউন্ট, cPanel লগইন আপনারVPS প্রোভাইডারে আপনার অ্যাকাউন্ট, root/প্যানেল লগইন আপনার
ডেভেলপারকে অ্যাক্সেসআলাদা FTP/SSH ইউজার বা cPanel-এর সীমিত অ্যাক্সেসআলাদা SSH ইউজার বা প্রোভাইডার প্যানেলে টিম মেম্বার
আনুমানিক খরচসাধারণত বছরে কয়েক হাজার টাকা (একটি বাস্তব কোটেশনে ৳৩,৬০০/বছর)কনফিগারেশন অনুযায়ী বেশি; প্রোভাইডারের বর্তমান দাম দেখুন

হোস্টিং কেনার আগে জেনে নিন: রিনিউ দাম কত, ফ্রি SSL দেয় কি না, ব্যাকআপ সুবিধা কেমন, এবং সার্ভার কোথায় (দেশের ভেতরে না বাইরে)। সার্ভার ও অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিয়ে আরও জানতে দেখুন ই-কমার্স ওয়েবসাইট সিকিউরিটি চেকলিস্ট।

ডেভেলপারকে নিরাপদে অ্যাক্সেস দেবেন কীভাবে

নিয়ম একটাই: মূল পাসওয়ার্ড দেবেন না, আলাদা বা সীমিত অ্যাক্সেস দিন। আর পূর্ণ পাসওয়ার্ড দিতেই হলে কাজ শেষে অবশ্যই বদলে ফেলুন।

  • রেজিস্ট্রারে: অনেক রেজিস্ট্রারে "Share access", "Sub-account" বা "Delegate access" সুবিধা আছে — শুধু DNS এডিটের অনুমতি দিন। এমন সুবিধা না থাকলে নিজে DNS বসিয়ে দিন, ডেভেলপার শুধু কোন রেকর্ড লাগবে বলে দিন।
  • cPanel হোস্টিংয়ে: আলাদা FTP অ্যাকাউন্ট বা ডাটাবেস ইউজার তৈরি করে দিন; প্রোভাইডার সুযোগ দিলে সীমিত অনুমতির ইউজার বানান।
  • VPS-এ: ডেভেলপারের জন্য আলাদা SSH ইউজার বা SSH key যোগ করুন; প্রোভাইডারের প্যানেলে টিম মেম্বার হিসেবে যোগ করার সুযোগ থাকলে সেটা ব্যবহার করুন।
  • পাসওয়ার্ড পাঠানোর সময়: একই মেসেজে ইউজারনেম আর পাসওয়ার্ড না পাঠিয়ে আলাদাভাবে পাঠান, কাজ শেষে চ্যাট থেকে মুছে দিন।
  • কাজ শেষে: ডেভেলপারের ইউজার মুছে দিন বা নিষ্ক্রিয় করুন, এবং যেসব পাসওয়ার্ড শেয়ার করেছিলেন সব বদলে ফেলুন।
  • লঞ্চের দিন: সব অ্যাক্সেস নিজের হাতে বুঝে নিন — পুরো তালিকা ও যাচাইয়ের ধাপ আছে ওয়েবসাইট হস্তান্তর চেকলিস্টে।

EOMS BD যেভাবে করে: আমরা ডোমেইন রেজিস্টার করি ক্লায়েন্টের নাম ও ক্লায়েন্টের ইমেইলে — রেজিস্ট্রার লগইন, পাসওয়ার্ড, DNS ও রিনিউয়ের নিয়ন্ত্রণ ক্লায়েন্টের থাকে। হোস্টিং বা VPS খোলা হয় ক্লায়েন্টের নামে ও অ্যাকাউন্টে, আর আমরা ডেভেলপার অ্যাক্সেস দিয়ে ডেপ্লয় করি। সার্ভার অ্যাক্সেস দিলে সার্ভার-সংক্রান্ত সাপোর্টও দেওয়া হয়। এই শর্তগুলো কোটেশনেই লেখা থাকে।

ডোমেইন ডেভেলপারের নামে থাকলে কীভাবে নিজের নামে আনবেন

দুইভাবে করা যায়: একই রেজিস্ট্রারের ভেতরে অ্যাকাউন্ট বদল (push/change of registrant), অথবা অথ কোড (EPP code) দিয়ে নিজের পছন্দের রেজিস্ট্রারে ট্রান্সফার। দুটোতেই বর্তমান অ্যাকাউন্টধারীর সহযোগিতা লাগে, তাই ভদ্রভাবে লিখিত অনুরোধ দিয়ে শুরু করুন।

পদ্ধতি ১: একই রেজিস্ট্রারে অ্যাকাউন্ট বদল

  1. ডোমেইন যে রেজিস্ট্রারে আছে, সেখানে নিজের নামে একটি অ্যাকাউন্ট খুলুন।
  2. ডেভেলপারকে বলুন তার অ্যাকাউন্ট থেকে ডোমেইনটি আপনার অ্যাকাউন্টে "push" বা "move" করতে।
  3. ডোমেইন আপনার অ্যাকাউন্টে এলে Registrant/Contact তথ্যে নিজের নাম ও ইমেইল বসান।
  4. অটো-রিনিউ, রেজিস্ট্রার লক ও 2FA চালু করুন। এই পদ্ধতিতে সাধারণত সাইট বন্ধ হয় না এবং বাড়তি খরচ লাগে না।

পদ্ধতি ২: অন্য রেজিস্ট্রারে ট্রান্সফার (EPP/Auth code)

  1. নিশ্চিত হোন ডোমেইনের মেয়াদ অন্তত কিছুদিন বাকি আছে এবং সম্প্রতি নিবন্ধন বা ট্রান্সফার হয়নি — নিয়ম অনুযায়ী এমন ক্ষেত্রে সাধারণত ৬০ দিনের ট্রান্সফার লক থাকে।
  2. ডেভেলপারকে দিয়ে ডোমেইন Unlock করান এবং Auth/EPP code নিন। Registrant ইমেইল আপনার হলে কোডটি সরাসরি আপনার কাছেই আসবে।
  3. নতুন রেজিস্ট্রারে নিজের অ্যাকাউন্টে "Transfer" অপশনে ডোমেইন ও কোড দিন এবং ট্রান্সফার ফি দিন (সাধারণত এর সাথে এক বছরের রিনিউ যোগ হয়)।
  4. অনুমোদনের ইমেইল এলে কনফার্ম করুন। ট্রান্সফার শেষ হতে সাধারণত কয়েক দিন লাগে।
  5. নেমসার্ভার/DNS আগের মতোই আছে কি না যাচাই করুন, যাতে সাইট ও ইমেইল চালু থাকে।
  6. সবশেষে অটো-রিনিউ, লক ও 2FA চালু করুন।

হোস্টিং ডেভেলপারের অ্যাকাউন্টে থাকলে সাধারণ পথ হলো নিজের নামে নতুন হোস্টিং কিনে ফাইল ও ডাটাবেস সেখানে সরিয়ে নেওয়া, তারপর DNS নতুন সার্ভারে দেওয়া। কেউ সহযোগিতা না করলে কী করবেন এবং চুক্তিতে কী লেখা থাকা উচিত — সেটা আলোচনা করা হয়েছে মালিকানা গাইডের শেষ অংশে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ডোমেইন কিনতে কি ট্রেড লাইসেন্স বা NID লাগে?

.com-এর মতো আন্তর্জাতিক ডোমেইন কিনতে সাধারণত শুধু নাম, ঠিকানা, ফোন, ইমেইল আর পেমেন্ট লাগে। .bd বা .com.bd ডোমেইনের ক্ষেত্রে কাগজপত্রের নিয়ম আলাদা, তাই সংশ্লিষ্ট প্রোভাইডারের কাছ থেকে বর্তমান তালিকা জেনে নিন।

ডলার কার্ড না থাকলে নিজের নামে ডোমেইন কীভাবে কিনব?

অনেক দেশি প্রোভাইডার টাকায় bKash, Nagad বা ব্যাংকের মাধ্যমে ডোমেইন বিক্রি করে। শুধু নিশ্চিত হোন অ্যাকাউন্টটি আপনার ইমেইলে খোলা, রেজিস্ট্র্যান্ট হিসেবে আপনার নাম আছে এবং আপনি নিজে প্যানেলে লগইন করে DNS ও রিনিউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

ডেভেলপার দিয়ে ডোমেইন কেনালে কী খেয়াল রাখব?

ডেভেলপার কিনে দিলেও অ্যাকাউন্টটি যেন আপনার ইমেইলে খোলা হয় এবং রেজিস্ট্র্যান্ট তথ্যে আপনার নাম থাকে। কেনার পর নিজে লগইন করে পাসওয়ার্ড বদলান এবং 2FA চালু করুন। ইনভয়েসের কপিও সংরক্ষণ করুন।

ডোমেইন ট্রান্সফার করলে কি ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে যায়?

সঠিকভাবে করলে সাধারণত বন্ধ হয় না, কারণ নেমসার্ভার ও DNS আগের মতোই থাকে। ট্রান্সফারের আগে বর্তমান DNS রেকর্ডগুলোর স্ক্রিনশট রেখে দিন এবং শেষ হওয়ার পর মিলিয়ে দেখুন। ইমেইলের MX রেকর্ডের দিকেও নজর রাখুন।

EPP code বা Auth code কী?

এটা ডোমেইনের একটা গোপন ট্রান্সফার পাসওয়ার্ড, যা দিয়ে ডোমেইন এক রেজিস্ট্রার থেকে আরেক রেজিস্ট্রারে নেওয়া হয়। বর্তমান রেজিস্ট্রারের প্যানেল থেকে এটা পাওয়া যায়, তবে তার আগে ডোমেইন আনলক করতে হয়। কোডটি কারো সাথে অপ্রয়োজনে শেয়ার করবেন না।

ডোমেইনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে কী হয়?

মেয়াদ শেষ হলে সাইট ও ইমেইল কাজ করা বন্ধ করে দেয়। সাধারণত একটা গ্রেস পিরিয়ড থাকে যখন সাধারণ দামে রিনিউ করা যায়, এরপর বাড়তি ফি দিয়ে ফেরত আনতে হতে পারে, আর শেষে ডোমেইন অন্য কেউ কিনে নিতে পারে। সময়সীমা ও ফি রেজিস্ট্রারভেদে আলাদা, তাই অটো-রিনিউ চালু রাখাই নিরাপদ।

আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটের লিখিত কোটেশন নিন

আপনার চাহিদা জানান — প্রথম বছর ও পরের বছরগুলোর সম্পূর্ণ খরচসহ কোটেশন পাঠাব।

  • ডোমেইন ও হোস্টিং আপনার নামে
  • সম্পূর্ণ সোর্স কোড ও ডাটাবেস হস্তান্তর
  • ৬ মাস ফ্রি সাপোর্ট, ১ বছর ফ্রি বাগ ফিক্স
  • +880 1784-222255

ফ্রি কোটেশন / পরামর্শ

সাবমিট করলে WhatsApp-এ সরাসরি কথা বলার অপশন পাবেন।