নিয়মিত অর্ডার আসে এমন ই-কমার্স সাইটে database-এর ব্যাকআপ অন্তত daily হওয়া উচিত, আর files (কোড, ছবি)-এর ব্যাকআপ weekly ও প্রতিটি আপডেটের আগে। ব্যাকআপ শুধু একই সার্ভারে রাখলে চলবে না — অন্তত একটি কপি আলাদা জায়গায়, আপনার নিজের নামের স্টোরেজে রাখুন। ব্যাকআপের শর্ত কোটেশন বা কন্ট্রাক্টে লিখিত নিন।
- পূর্ণ ব্যাকআপ = database + files + configuration (API key, config ফাইল)।
- 3-2-1 নিয়ম: ৩টি কপি, ২ ধরনের জায়গা, ১টি মূল সার্ভারের বাইরে।
- শুধু সর্বশেষটি নয় — অন্তত শেষ ৭ দিনের ব্যাকআপ রাখুন।
- ডেভেলপারকে জিজ্ঞেস করুন: frequency, retention, location, off-site কপি, নিজে ডাউনলোড, restore কে করবে, restore ফি।
- বছরে অন্তত দুবার restore টেস্ট করুন — না টেস্ট করা ব্যাকআপে ভরসা নেই।
ব্যাকআপ কেন দরকার — কী হারাতে পারেন
ব্যাকআপ হলো আপনার ওয়েবসাইটের একটি সম্পূর্ণ কপি, যা দিয়ে কোনো সমস্যা হলে সাইটকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায়। ব্যাকআপ না থাকলে একটি ভুল ক্লিক, হ্যাকিং বা সার্ভার নষ্ট হওয়ায় বছরের পর বছরের অর্ডার ও কাস্টমারের তথ্য চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে।
একটি অনলাইন শপের সবচেয়ে দামি জিনিস ডিজাইন নয় — ডাটা। কোন কাস্টমার কী কিনেছেন, কার কাছে কত টাকা বাকি, কোন অর্ডার কুরিয়ারে গেছে, কোন প্রোডাক্টের স্টক কত — এগুলো আবার বানানো যায় না। সাধারণত যেসব কারণে ডাটা হারায়:
- মানুষের ভুল: স্টাফ ভুল করে প্রোডাক্ট ক্যাটাগরি বা অর্ডার ডিলিট করে ফেললেন।
- হ্যাকিং বা ম্যালওয়্যার: সাইটে ক্ষতিকর কোড ঢুকে গেল, ফাইল নষ্ট হয়ে গেল।
- সার্ভার সমস্যা: হোস্টিং কোম্পানির ডিস্ক নষ্ট, অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড বা বিল না দেওয়ায় অ্যাকাউন্ট বন্ধ।
- ভুল আপডেট: নতুন ফিচার যোগ করার সময় কোডে ভুল হয়ে পুরো সাইট বন্ধ।
- ডেভেলপারের সাথে সম্পর্ক শেষ: সার্ভার ডেভেলপারের অ্যাকাউন্টে থাকলে এবং হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ হলে সব হারানোর ঝুঁকি।
শেষ কারণটি আসলে মালিকানার প্রশ্ন — এ নিয়ে বিস্তারিত আছে ওয়েবসাইটের মালিকানা কার গাইডে।
কীসের ব্যাকআপ নেবেন: database ও files
একটি পূর্ণ ব্যাকআপে দুটি অংশ থাকতেই হবে — database এবং website files। যেকোনো একটি না থাকলে সাইট পুরোপুরি ফেরানো যাবে না।
| অংশ | এতে কী থাকে | কত ঘন ঘন বদলায় |
|---|---|---|
| Database | অর্ডার, কাস্টমার, প্রোডাক্টের নাম-দাম-স্টক, পেমেন্ট স্ট্যাটাস, অ্যাডমিন ইউজার, সেটিংস | প্রতিদিন, এমনকি প্রতি মিনিটে |
| Files | source code, থিম/ডিজাইন, প্রোডাক্টের ছবি, আপলোড করা ফাইল, ইনভয়েস PDF | নতুন ছবি আপলোড বা কোড আপডেটের সময় |
| কনফিগারেশন | .env বা config ফাইল, payment ও courier API key, cron job সেটিং | খুব কম, কিন্তু হারালে সাইট চলবে না |
সবচেয়ে বেশি বদলায় database, তাই এর ব্যাকআপ সবচেয়ে ঘন ঘন দরকার। ছবি ও কোড কম বদলায়, তাই এগুলোর ব্যাকআপ একটু কম ঘন ঘন হলেও চলে — তবে প্রতিটি কোড আপডেটের আগে আলাদা ব্যাকআপ নেওয়া উচিত।
কনফিগারেশন ফাইলে পাসওয়ার্ড ও API key থাকে। তাই ব্যাকআপ ফাইল যেখানে রাখবেন, সেই জায়গাও নিরাপদ হতে হবে — পাবলিক লিংকে বা সবার অ্যাক্সেস আছে এমন ফোল্ডারে রাখবেন না।
Daily নাকি weekly — কত ঘন ঘন ব্যাকআপ দরকার
নিয়মিত অর্ডার আসে এমন ই-কমার্স সাইটে database-এর ব্যাকআপ অন্তত daily হওয়া উচিত; weekly ব্যাকআপ যথেষ্ট শুধু সেই সাইটে, যেখানে সপ্তাহে খুব কম পরিবর্তন হয়। সহজ নিয়ম: যতটুকু ডাটা হারালে আপনি মেনে নিতে পারবেন, ব্যাকআপের ব্যবধান তার চেয়ে বেশি হওয়া যাবে না।
ধরুন weekly ব্যাকআপ নেওয়া হয় শুক্রবার। বৃহস্পতিবার সাইট নষ্ট হলে আগের শুক্রবারের কপি ফেরানো যাবে — মাঝের ছয় দিনের সব অর্ডার, নতুন কাস্টমার আর স্টকের হিসাব হারিয়ে যাবে। Daily ব্যাকআপে সর্বোচ্চ এক দিনের ডাটা ঝুঁকিতে থাকে।
| সাইটের ধরন | Database ব্যাকআপ | Files ব্যাকআপ |
|---|---|---|
| নতুন শপ, দিনে অল্প কিছু অর্ডার | Daily | Weekly + প্রতিটি আপডেটের আগে |
| নিয়মিত অর্ডার, ক্যাম্পেইন চলে | Daily (প্রয়োজনে দিনে একাধিকবার) | Weekly + প্রতিটি আপডেটের আগে |
| অনেক অর্ডার, বড় ক্যাটালগ | দিনে কয়েকবার বা real-time replication | Daily |
| শুধু তথ্যভিত্তিক সাইট (অর্ডার নেই) | Weekly | Weekly বা মাসিক |
ঈদ বা বড় সেলের আগে ও সেল শেষে একটি করে আলাদা ব্যাকআপ নেওয়ার কথা ডেভেলপারকে বলে রাখুন। এই সময়গুলোতেই অর্ডার সবচেয়ে বেশি আসে, আর সাইটে চাপও বেশি থাকে।
কতদিন পুরনো ব্যাকআপ রাখবেন (retention)
শুধু সর্বশেষ ব্যাকআপ রাখা ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক সময় হ্যাকিং বা ভুল ধরা পড়ে কয়েক দিন পরে — ততদিনে সর্বশেষ ব্যাকআপেও সমস্যাযুক্ত ডাটা ঢুকে যায়। একটি প্রচলিত ও বাস্তবসম্মত নিয়ম হলো: শেষ ৭ দিনের daily ব্যাকআপ, শেষ ৪ সপ্তাহের weekly ব্যাকআপ এবং কয়েক মাসের monthly ব্যাকআপ রাখা। আপনার সাইটের আকার ও স্টোরেজ খরচ অনুযায়ী এটি কম-বেশি হতে পারে।
ব্যাকআপ কোথায় রাখবেন — 3-2-1 নিয়ম সহজ ভাষায়
ব্যাকআপ শুধু একই সার্ভারে রাখলে সেটি আসলে ব্যাকআপ নয় — সার্ভার নষ্ট হলে সাইট আর ব্যাকআপ একসাথে হারাবে। নিরাপদ পদ্ধতি হলো 3-2-1 নিয়ম মেনে চলা।
- ৩টি কপি: লাইভ সাইট + অন্তত আরও ২টি ব্যাকআপ কপি।
- ২ ধরনের জায়গা: যেমন একটি সার্ভারে, আরেকটি ক্লাউড স্টোরেজে (Google Drive, Dropbox বা S3-ধরনের অবজেক্ট স্টোরেজ)।
- ১টি off-site কপি: অন্তত একটি কপি মূল সার্ভার ও মূল হোস্টিং কোম্পানির বাইরে।
ছোট শপের জন্য বাস্তবে এটি এমন হতে পারে: হোস্টিং-এর নিজস্ব ব্যাকআপ (cPanel বা হোস্টিং প্যানেলের অটো ব্যাকআপ), তার সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি কপি আপনার নিজের নামের ক্লাউড স্টোরেজে যাওয়া, আর মাসে একবার আপনার কম্পিউটার বা এক্সটার্নাল ড্রাইভে একটি কপি ডাউনলোড করে রাখা।
শুধু হোস্টিং কোম্পানির ব্যাকআপের ওপর নির্ভর করবেন না। অনেক শেয়ার্ড হোস্টিং প্ল্যানে ব্যাকআপ "best effort" হিসেবে দেওয়া হয় — অর্থাৎ নিশ্চয়তা নেই। আপনার প্ল্যানে ব্যাকআপ কত দিন রাখা হয় এবং restore-এর জন্য চার্জ আছে কিনা, হোস্টিং প্রোভাইডারের কাছ থেকে লিখিতভাবে জেনে নিন।
off-site স্টোরেজ অ্যাকাউন্টটিও আপনার নামে ও আপনার ইমেইলে খোলা ভালো। তাহলে ডেভেলপার বা হোস্টিং বদলালেও ব্যাকআপ আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে। হোস্টিং নিজের নামে নেওয়ার পদ্ধতি জানতে পড়ুন ডোমেইন ও হোস্টিং নিজের নামে কীভাবে নেবেন।
ডেভেলপারকে যে ৭টি প্রশ্ন অবশ্যই করবেন
কাজ শুরুর আগেই এই ৭টি প্রশ্নের উত্তর লিখিতভাবে নিন। অস্পষ্ট উত্তর ("হ্যাঁ, ব্যাকআপ থাকবে") যথেষ্ট নয় — নির্দিষ্ট উত্তর চাই।
- কত ঘন ঘন ব্যাকআপ হবে? Database ও files আলাদাভাবে — daily, weekly নাকি অন্য কিছু? এটি স্বয়ংক্রিয় (automatic) নাকি হাতে নিতে হবে?
- কতদিনের ব্যাকআপ রাখা হবে? শুধু সর্বশেষটি, নাকি গত ৭ দিন/৪ সপ্তাহের কপিও থাকবে?
- ব্যাকআপ কোথায় রাখা হবে? একই সার্ভারে, নাকি আলাদা জায়গায়? সেই স্টোরেজ অ্যাকাউন্ট কার নামে?
- Off-site বা আলাদা স্টোরেজে কপি যাবে কি? মূল সার্ভার পুরো নষ্ট হলেও কি ব্যাকআপ পাওয়া যাবে?
- আমি নিজে ব্যাকআপ ডাউনলোড করতে পারব কি? অ্যাডমিন প্যানেল বা হোস্টিং প্যানেল থেকে নিজে ডাউনলোডের সুযোগ থাকবে কিনা?
- সাইট নষ্ট হলে restore কে করবে এবং কত সময়ে? কাকে জানাতে হবে, কত সময়ের মধ্যে সাইট ফিরবে?
- Restore করতে কোনো ফি লাগবে কি? সাপোর্ট পিরিয়ডের মধ্যে ও পরে — আলাদা চার্জ আছে কিনা, থাকলে কত?
এই প্রশ্নগুলো বৃহত্তর একটি তালিকার অংশ — পুরো তালিকা আছে ই-কমার্স ওয়েবসাইট বানানোর আগে চেকলিস্ট-এ।
ব্যাকআপ কাজ করে কিনা — restore টেস্ট করুন
যে ব্যাকআপ কখনো restore করে দেখা হয়নি, সেটি কাজ করবে কিনা নিশ্চিত বলা যায় না। ফাইল অসম্পূর্ণ, নষ্ট বা ভুল ফোল্ডারের হতে পারে — আর এটা সাধারণত ধরা পড়ে ঠিক বিপদের দিনে।
তাই বছরে অন্তত দুবার (বা বড় আপডেটের পর) ডেভেলপারকে একটি restore টেস্ট করতে বলুন:
- সাম্প্রতিক একটি ব্যাকআপ বেছে নিন।
- লাইভ সাইটে হাত না দিয়ে আলাদা একটি টেস্ট সাবডোমেইন বা লোকাল কম্পিউটারে সেটি restore করুন।
- অ্যাডমিন প্যানেলে লগইন করে দেখুন — সর্বশেষ অর্ডারগুলো আছে কিনা, প্রোডাক্টের ছবি দেখা যাচ্ছে কিনা, রিপোর্ট ঠিক আসছে কিনা।
- কত সময় লাগল তা লিখে রাখুন — এটাই বাস্তবে আপনার "সাইট ফেরার সময়"।
- টেস্ট শেষে টেস্ট কপিটি মুছে ফেলুন, যাতে কাস্টমারের ডাটা অপ্রয়োজনে কোথাও পড়ে না থাকে।
কন্ট্রাক্ট বা কোটেশনে ব্যাকআপ নিয়ে কী লিখবেন
মৌখিক প্রতিশ্রুতি নয় — ব্যাকআপের শর্ত কোটেশন বা কন্ট্রাক্টে লিখিত থাকা উচিত। নিচের মতো একটি অনুচ্ছেদ আপনি নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী বদলে ব্যবহার করতে পারেন:
"ওয়েবসাইটের database-এর স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপ প্রতিদিন এবং files-এর ব্যাকআপ প্রতি সপ্তাহে নেওয়া হবে। অন্তত শেষ ৭ দিনের ব্যাকআপ সংরক্ষিত থাকবে এবং অন্তত একটি কপি মূল সার্ভারের বাইরে ক্লায়েন্টের নামে খোলা স্টোরেজে রাখা হবে। ক্লায়েন্ট যেকোনো সময় ব্যাকআপ ডাউনলোড করতে পারবেন। সাইটে সমস্যা হলে ডেভেলপার জানানোর পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে restore করবেন; restore-এর চার্জ (যদি থাকে) এখানে উল্লেখ করা হলো: ____।"
সংখ্যাগুলো (daily/weekly, ৭ দিন, restore-এর সময়) আপনার সাইট ও বাজেট অনুযায়ী আলোচনা করে বসান। গুরুত্বপূর্ণ হলো — প্রতিটি বিষয় নির্দিষ্টভাবে লেখা থাকা।
লঞ্চের সময় হস্তান্তরের তালিকায় "backup" আলাদা আইটেম হিসেবে রাখুন: লাইভ হওয়ার দিনের একটি পূর্ণ ব্যাকআপ (database + files + configuration) আপনার হাতে পৌঁছানো উচিত। সাপোর্ট ও মেইনটেন্যান্সে ব্যাকআপ কীভাবে পড়ে, তা জানতে দেখুন ওয়েবসাইট মেইনটেন্যান্স ও সাপোর্ট খরচ।
EOMS BD যেভাবে কাজ করে: আমাদের প্রকল্পে হোস্টিং/VPS ক্লায়েন্টের নিজের নামে ও অ্যাকাউন্টে খোলা হয়, আর সম্পূর্ণ source code ও database ক্লায়েন্টের সম্পত্তি — লঞ্চের সময় এগুলোর সাথে একটি backup ও deployment configuration-ও হস্তান্তর করা হয়। ফলে ব্যাকআপের নিয়ন্ত্রণ শুরু থেকেই আপনার হাতে থাকে। ব্যাকআপ কত ঘন ঘন ও কোথায় হবে, তা আপনার সাইটের প্রয়োজন অনুযায়ী আলোচনা করে কোটেশনে লিখে দেওয়া হয়।
মালিক হিসেবে নিজে যা করবেন — মাসিক ৫ মিনিটের রুটিন
পুরো দায়িত্ব ডেভেলপারের ওপর ছেড়ে না দিয়ে মাসে একবার নিজে কয়েকটি জিনিস যাচাই করুন। এতে টেকনিক্যাল জ্ঞান লাগে না।
- হোস্টিং প্যানেল বা ক্লাউড স্টোরেজে ঢুকে দেখুন সর্বশেষ ব্যাকআপের তারিখ গতকাল বা আজকের কিনা।
- ব্যাকআপ ফাইলের সাইজ দেখুন — হঠাৎ অনেক ছোট হয়ে গেলে কিছু বাদ পড়ছে কিনা জিজ্ঞেস করুন।
- মাসে একটি কপি নিজের কম্পিউটার বা এক্সটার্নাল ড্রাইভে ডাউনলোড করে রাখুন।
- হোস্টিং ও ক্লাউড স্টোরেজের বিল/রিনিউয়াল সময়মতো দেওয়া হয়েছে কিনা দেখুন — বিল বাকি পড়লে ব্যাকআপও বন্ধ হতে পারে।
- নতুন ফিচার বা বড় আপডেটের আগে ডেভেলপারকে মনে করিয়ে দিন: "আগে একটি ব্যাকআপ নিন।"
ব্যাকআপ হলো সিকিউরিটির শেষ রক্ষাকবচ — হ্যাকিং ঠেকানো না গেলেও ভালো ব্যাকআপ থাকলে ব্যবসা ফেরানো যায়। সাইটকে আগে থেকেই সুরক্ষিত রাখার পুরো চেকলিস্ট পাবেন ই-কমার্স ওয়েবসাইট সিকিউরিটি চেকলিস্ট-এ।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
শেয়ার্ড হোস্টিং-এর অটো ব্যাকআপ কি যথেষ্ট?
শুরুতে এটি কাজে লাগে, কিন্তু একমাত্র ভরসা হিসেবে যথেষ্ট নয়। অনেক প্ল্যানে ব্যাকআপের নিশ্চয়তা থাকে না এবং কপিগুলো একই কোম্পানির সার্ভারে থাকে। তাই অন্তত একটি কপি আলাদা ক্লাউড স্টোরেজে বা নিজের কম্পিউটারে রাখুন, এবং হোস্টিং প্রোভাইডারের কাছ থেকে তাদের ব্যাকআপ নীতি জেনে নিন।
ব্যাকআপ রাখতে কি আলাদা খরচ লাগে?
ছোট সাইটের ক্ষেত্রে হোস্টিং প্যানেলের ব্যাকআপ ও সাধারণ ক্লাউড স্টোরেজ দিয়ে খরচ খুব কম রাখা যায়। সাইট বড় হলে স্টোরেজ বা আলাদা ব্যাকআপ সার্ভিসের খরচ লাগতে পারে, যা প্রোভাইডার ও স্টোরেজের পরিমাণ অনুযায়ী ভিন্ন হয়। কোটেশনেই জেনে নিন ব্যাকআপ সেটআপ ও স্টোরেজ খরচ ধরা আছে কিনা।
Google Drive-এ ওয়েবসাইটের ব্যাকআপ রাখা কি নিরাপদ?
off-site কপি হিসেবে Google Drive বা এ ধরনের ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহার করা যায়, তবে অ্যাকাউন্টটি আপনার নামে হতে হবে এবং 2-step verification চালু রাখতে হবে। ব্যাকআপে কাস্টমারের তথ্য ও API key থাকে, তাই ফোল্ডারটি কখনো পাবলিক লিংকে শেয়ার করবেন না।
সাইট হ্যাক হলে কোন ব্যাকআপ restore করব?
হ্যাক ঠিক কবে হয়েছে তা আগে বের করার চেষ্টা করুন, তারপর তার আগের একটি পরিষ্কার ব্যাকআপ বেছে নিন। এজন্যই কয়েক দিনের পুরনো ব্যাকআপ রাখা জরুরি। restore-এর পর পাসওয়ার্ড বদলানো ও যে দুর্বলতা দিয়ে হ্যাক হয়েছে তা ঠিক করা না হলে আবার একই সমস্যা হতে পারে।
ডেভেলপার যদি ব্যাকআপ দিতে না চায় তাহলে কী করব?
হোস্টিং আপনার নামে থাকলে আপনি নিজেই হোস্টিং প্যানেল থেকে ব্যাকআপ ডাউনলোড করতে পারবেন। হোস্টিং ডেভেলপারের নামে থাকলে লিখিতভাবে database ও files চেয়ে অনুরোধ করুন এবং দ্রুত অ্যাকাউন্টটি নিজের নামে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন। ভবিষ্যতে কাজ শুরুর আগেই কন্ট্রাক্টে ব্যাকআপ হস্তান্তরের শর্ত লিখে নিন।
Restore করতে সাধারণত কত সময় লাগে?
এটি সাইটের আকার, ব্যাকআপ কোথায় রাখা আছে এবং সমস্যার ধরনের ওপর নির্ভর করে — ছোট সাইটে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেও সম্ভব, বড় সাইটে বেশি লাগতে পারে। আগে থেকে একবার restore টেস্ট করলে আপনার সাইটের বাস্তব সময়টা জানা যায়, আর সেই সময়সীমা কন্ট্রাক্টে লিখে রাখা যায়।