একটি ভালো ই-কমার্স অ্যাডমিন প্যানেলে অন্তত ৯টি রিপোর্ট থাকা উচিত: মোট বিক্রি, দৈনিক/সাপ্তাহিক/মাসিক/বাৎসরিক বিক্রি, বেস্ট-সেলিং প্রোডাক্ট, লো-স্টক, অর্ডার, কাস্টমার, প্রোডাক্ট, রেভিনিউ এবং ক্যানসেল/রিটার্ন রিপোর্ট — প্রতিটিতে তারিখ ফিল্টারসহ। সাথে লাগবে রোলভিত্তিক ইউজার পারমিশন, অ্যাক্টিভিটি লগ, পূর্ণাঙ্গ অর্ডার ম্যানেজমেন্ট এবং Excel/CSV এক্সপোর্ট। কোটেশনে এগুলো নাম ধরে লিখিয়ে নিন।
- বিক্রি ও রেভিনিউ রিপোর্ট দেখায় ব্যবসা বাড়ছে কিনা এবং ডিসকাউন্ট ও ডেলিভারি চার্জ বাদে আসল আয় কত।
- বেস্ট-সেলিং ও লো-স্টক রিপোর্ট বলে কোন মাল কখন আবার আনতে হবে।
- ক্যানসেল/রিটার্ন রিপোর্ট কারণসহ রাখলে ফেক অর্ডার ও ডেলিভারি সমস্যা ধরা যায়।
- ইউজার রোল (Admin, Manager, Order Staff, Accountant ইত্যাদি) দিয়ে প্রত্যেক স্টাফ শুধু নিজের কাজটুকু দেখবেন; অ্যাক্টিভিটি লগে থাকবে কে কী বদলেছেন।
- Excel/CSV এক্সপোর্ট থাকলে হিসাবরক্ষকের কাজ সহজ হয় এবং নিজের ডেটা নিজের হাতে থাকে।
অ্যাডমিন প্যানেল কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
অ্যাডমিন প্যানেল হলো আপনার অনলাইন শপের পেছনের অফিস — অর্ডার, প্রোডাক্ট, স্টক, কাস্টমার আর হিসাব সবকিছু এখান থেকেই সামলাতে হয়। কাস্টমার যে ওয়েবসাইট দেখেন সেটা দোকানের সামনের অংশ, কিন্তু ব্যবসা আসলে চলে অ্যাডমিন প্যানেলে।
অনেকে ওয়েবসাইট বানানোর সময় শুধু ডিজাইন নিয়ে কথা বলেন, অ্যাডমিন প্যানেলে কী থাকবে তা জিজ্ঞেস করেন না। ফলে লঞ্চের পর দেখা যায়, মাসের মোট বিক্রি জানতে Excel-এ হাতে হিসাব করতে হচ্ছে, কোন প্রোডাক্ট শেষ হয়ে যাচ্ছে টের পাওয়া যাচ্ছে না, কিংবা স্টাফকে লগইন দিতে গেলে পুরো প্যানেলের অ্যাক্সেস দিয়ে দিতে হচ্ছে। তাই কোটেশন নেওয়ার আগেই রিপোর্ট ও ফিচারের তালিকা লিখিতভাবে ঠিক করে নেওয়া ভালো। ওয়েবসাইট বানানোর আগের পুরো প্রস্তুতির তালিকা পাবেন আমাদের ই-কমার্স ওয়েবসাইট রিকোয়ারমেন্ট চেকলিস্ট-এ।
একটা সহজ পরীক্ষা করুন: অ্যাডমিন প্যানেল খুলে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে কি বলতে পারবেন আজ কত টাকার অর্ডার এসেছে, কয়টা অর্ডার ডেলিভারির অপেক্ষায় আছে এবং কোন প্রোডাক্টের স্টক কমে গেছে? না পারলে বুঝবেন প্যানেলে ঘাটতি আছে।
যে ৯টি রিপোর্ট অবশ্যই থাকা উচিত
একটি ভালো ই-কমার্স অ্যাডমিন প্যানেলে অন্তত এই ৯টি রিপোর্ট থাকা উচিত: মোট বিক্রি, সময়ভিত্তিক বিক্রি, বেস্ট-সেলিং প্রোডাক্ট, লো-স্টক, অর্ডার, কাস্টমার, প্রোডাক্ট, রেভিনিউ এবং ক্যানসেল/রিটার্ন রিপোর্ট। প্রতিটি রিপোর্ট আপনাকে একটা নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
| রিপোর্ট | কী দেখায় | কোন সিদ্ধান্তে কাজে লাগে |
|---|---|---|
| মোট বিক্রি (Total Sales) | নির্দিষ্ট সময়ে মোট অর্ডার সংখ্যা ও টাকার পরিমাণ | ব্যবসা বাড়ছে নাকি কমছে |
| দৈনিক/সাপ্তাহিক/মাসিক/বাৎসরিক বিক্রি | সময় অনুযায়ী বিক্রির তুলনা | কখন বিজ্ঞাপন বাড়াবেন, ঈদ-পূজার আগে কতটা স্টক রাখবেন |
| বেস্ট-সেলিং প্রোডাক্ট | সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া প্রোডাক্ট | কোনটার স্টক বেশি রাখবেন, কোনটার বিজ্ঞাপন চালাবেন |
| লো-স্টক | যেসব প্রোডাক্টের স্টক নির্ধারিত সীমার নিচে | কখন নতুন মাল অর্ডার দেবেন |
| অর্ডার রিপোর্ট | স্ট্যাটাস অনুযায়ী অর্ডার — পেন্ডিং, কনফার্মড, শিপড, ডেলিভারড | কোন ধাপে অর্ডার আটকে আছে |
| কাস্টমার রিপোর্ট | নতুন বনাম পুরনো কাস্টমার, কে কত টাকার কেনাকাটা করেছেন | রিপিট কাস্টমারকে অফার, বিশেষ যত্ন |
| প্রোডাক্ট রিপোর্ট | প্রতিটি প্রোডাক্টের বিক্রি, স্টক ও পারফরম্যান্স | কোন প্রোডাক্ট বাদ দেবেন বা দাম বদলাবেন |
| রেভিনিউ রিপোর্ট | ডিসকাউন্ট ও ডেলিভারি চার্জ আলাদা করে আসল আয়, পেমেন্ট মেথড অনুযায়ী ভাগ | আসল আয় ও ক্যাশ ফ্লো বোঝা |
| ক্যানসেল/রিটার্ন রিপোর্ট | কোন অর্ডার কেন বাতিল বা ফেরত হয়েছে | ফেক অর্ডার, প্রোডাক্টের মান বা ডেলিভারি সমস্যা চিহ্নিত করা |
সব রিপোর্টে তারিখ বাছাইয়ের সুবিধা (date range filter) থাকা জরুরি — যেমন "আজ", "গত ৭ দিন", "এই মাস", "গত মাস" অথবা নিজের পছন্দের তারিখ। তারিখ বাছাই না থাকলে রিপোর্ট থাকলেও তুলনা করা যায় না।
বিক্রি ও রেভিনিউ রিপোর্ট: দৈনিক থেকে বাৎসরিক
বিক্রির রিপোর্ট বলে ব্যবসা কোন দিকে যাচ্ছে, আর রেভিনিউ রিপোর্ট বলে আসলে পকেটে কত আসছে। মোট বিক্রির পাশাপাশি দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক ও বাৎসরিক ভাগ থাকলে আগের সময়ের সাথে তুলনা করে পরিকল্পনা করা যায়।
মোট বিক্রি ও সময়ভিত্তিক বিক্রি
ড্যাশবোর্ডে ঢুকেই আজকের, এই সপ্তাহের ও এই মাসের বিক্রি দেখা গেলে প্রতিদিন আলাদা করে হিসাব করতে হয় না। মাসিক ও বাৎসরিক রিপোর্ট দিয়ে বোঝা যায় কোন মৌসুমে বিক্রি বাড়ে — যেমন ঈদ, পূজা, শীত বা বিশেষ সেলের সময়। এই তথ্য থেকে আগেভাগে স্টক আর বিজ্ঞাপনের বাজেট ঠিক করা সহজ হয়। গ্রাফ বা চার্ট থাকলে এক নজরে ওঠানামা বোঝা যায়।
রেভিনিউ রিপোর্ট আলাদা কেন
বিক্রি আর আয় এক জিনিস নয়। ধরুন ১,০০০ টাকার একটা অর্ডারে ১০০ টাকা ডিসকাউন্ট আর ১২০ টাকা ডেলিভারি চার্জ আছে — তাহলে প্রোডাক্ট থেকে আপনার আসল আয় আলাদা করে হিসাব করতে হবে। ভালো রেভিনিউ রিপোর্টে এগুলো আলাদা কলামে দেখায়:
- প্রোডাক্টের মোট দাম
- ডিসকাউন্ট ও কুপন বাবদ ছাড়
- ডেলিভারি চার্জ
- পেমেন্ট মেথড অনুযায়ী ভাগ — COD, bKash, Nagad, কার্ড
- ক্যানসেল ও রিফান্ড বাদ দিয়ে নিট আয়
COD অর্ডারের কত টাকা এখনো কুরিয়ারের কাছে আছে আর অনলাইনে কত টাকা এসে গেছে — এটা আলাদা জানা ক্যাশ ফ্লোর জন্য খুব দরকার। অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে যুক্ত থাকলে পেমেন্ট স্ট্যাটাস নিজে থেকেই অর্ডারে আপডেট হয়, ফলে এই হিসাব মেলানো সহজ হয়।
প্রোডাক্ট, বেস্ট-সেলিং ও লো-স্টক রিপোর্ট
প্রোডাক্ট-সংক্রান্ত রিপোর্ট বলে দেয় কোন পণ্যে টাকা খাটাবেন আর কোনটা থেকে সরে আসবেন। স্টক শেষ হয়ে অর্ডার হারানো এবং অবিক্রিত মালে টাকা আটকে থাকা — দুটো সমস্যাই এই রিপোর্ট দিয়ে অনেকটা এড়ানো যায়।
বেস্ট-সেলিং প্রোডাক্ট
বেস্ট-সেলিং রিপোর্ট পিস হিসেবে এবং টাকার হিসেবে — দুইভাবেই দেখানো উচিত। কারণ সবচেয়ে বেশি পিস বিক্রি হওয়া প্রোডাক্ট সবসময় সবচেয়ে বেশি আয় দেয় না। ক্যাটাগরি অনুযায়ী ফিল্টার থাকলে বোঝা যায় কোন ক্যাটাগরি ব্যবসা টেনে নিচ্ছে।
লো-স্টক অ্যালার্ট
প্রতিটি প্রোডাক্টে — এবং সাইজ বা কালারের মতো প্রতিটি ভ্যারিয়েন্টে — একটা ন্যূনতম স্টক সীমা সেট করা যাবে কিনা জিজ্ঞেস করুন। স্টক সেই সীমার নিচে নামলে ড্যাশবোর্ডে বা ইমেইলে সতর্কবার্তা আসা উচিত। স্টক শূন্য হলে প্রোডাক্ট পেজে নিজে থেকেই "Out of Stock" দেখানো উচিত, যাতে কাস্টমার অর্ডার দিয়ে পরে হতাশ না হন। স্টক কীভাবে গোছানো ও হিসাব রাখা যায় তার বিস্তারিত পাবেন ই-কমার্স ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট গাইডে।
প্রোডাক্ট রিপোর্ট
প্রতিটি প্রোডাক্ট কতবার বিক্রি হয়েছে, কতবার ফেরত এসেছে, স্টকে কত আছে — এক জায়গায় দেখা গেলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ। যেসব প্রোডাক্ট মাসের পর মাস বিক্রি হচ্ছে না, সেগুলোতে ছাড় দিয়ে স্টক খালি করা বা প্রোডাক্ট পেজের ছবি ও বর্ণনা ঠিক করার সময় এসেছে কিনা — এই রিপোর্টই তা বলে দেয়।
কাস্টমার এবং ক্যানসেল/রিটার্ন রিপোর্ট
কাস্টমার রিপোর্ট বলে কারা আপনার আসল ক্রেতা, আর ক্যানসেল/রিটার্ন রিপোর্ট বলে কোথায় টাকা হারাচ্ছেন। বাংলাদেশে COD-নির্ভর ব্যবসায় দ্বিতীয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রতিটি ফেরত পার্সেলে ডেলিভারি খরচ আর সময় দুটোই নষ্ট হয়।
কাস্টমার রিপোর্টে যা দেখবেন
- নতুন কাস্টমার বনাম রিপিট কাস্টমার
- কোন কাস্টমার মোট কত টাকার কেনাকাটা করেছেন
- এলাকা বা জেলা অনুযায়ী অর্ডার — কোথায় ডেলিভারি বেশি যায়
- অনেকদিন কেনেননি এমন কাস্টমার — যাদের নতুন অফার পাঠানো যায়
কাস্টমারের তথ্য গুছিয়ে রেখে কীভাবে রিপিট বিক্রি বাড়ানো যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আছে কাস্টমার ম্যানেজমেন্ট লেখায়।
ক্যানসেল ও রিটার্ন রিপোর্ট
অর্ডার ক্যানসেল বা রিটার্ন হলে কারণ লিখে রাখার অপশন থাকা উচিত — যেমন "ফোন ধরেননি", "সাইজ মেলেনি", "প্রোডাক্ট ক্ষতিগ্রস্ত", "কাস্টমার মত বদলেছেন"। কারণগুলো জমা হলে প্যাটার্ন চোখে পড়ে: একই নম্বর থেকে বারবার ফেক অর্ডার, নির্দিষ্ট প্রোডাক্টে বেশি রিটার্ন, কিংবা নির্দিষ্ট এলাকায় ডেলিভারি ব্যর্থ হওয়া। তখন সেই নম্বর ব্লক করা, প্রোডাক্টের বর্ণনা ঠিক করা বা ওই এলাকায় অগ্রিম ডেলিভারি চার্জ নেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
রিটার্ন বা ক্যানসেল হওয়া প্রোডাক্ট স্টকে ফেরত যোগ হচ্ছে কিনা নিশ্চিত হোন। কিছু সিস্টেমে অর্ডার ক্যানসেল হলে স্টক আপডেট হয় না, ফলে প্যানেলে স্টক শূন্য দেখায় অথচ গুদামে মাল পড়ে থাকে।
কুরিয়ার API ইন্টিগ্রেশন করা থাকলে ডেলিভারি ও রিটার্নের স্ট্যাটাস কুরিয়ার থেকে নিজে থেকেই প্যানেলে চলে আসতে পারে, হাতে আপডেট করতে হয় না।
অর্ডার ম্যানেজমেন্টে যা যা থাকা দরকার
অর্ডার ম্যানেজমেন্ট হলো অ্যাডমিন প্যানেলের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অংশ। অর্ডার আসা থেকে ডেলিভারি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ এক জায়গা থেকে দেখা ও বদলানো গেলে স্টাফের সময় অনেক বাঁচে এবং ভুল কমে।
- নতুন অর্ডারের নোটিফিকেশন — প্যানেলে, ইমেইলে বা SMS-এ সাথে সাথে জানা।
- অর্ডার কনফার্মেশন — কাস্টমারকে ফোন করে কনফার্ম করার পর স্ট্যাটাস বদলানো ও নোট লেখা।
- অর্ডার এডিট — ঠিকানা, সাইজ বা পরিমাণ বদল, স্টক ও মোট টাকা নিজে থেকে ঠিক হওয়া।
- ইনভয়েস ও প্যাকিং স্লিপ প্রিন্ট — এক ক্লিকে।
- কুরিয়ারে পাঠানো — পার্সেল বুকিং ও ট্র্যাকিং আইডি অর্ডারের সাথে যুক্ত থাকা।
- ডেলিভারি বা রিটার্ন আপডেট — শেষ স্ট্যাটাস, COD টাকা পাওয়া গেছে কিনা।
এর পাশাপাশি যা দেখে নেবেন:
- স্ট্যাটাস, তারিখ, পেমেন্ট মেথড বা এলাকা দিয়ে অর্ডার ফিল্টার ও সার্চ
- ফোন নম্বর দিয়ে একজন কাস্টমারের আগের সব অর্ডার দেখা
- একসাথে অনেক অর্ডারের স্ট্যাটাস বদলানো (bulk action)
- ম্যানুয়াল অর্ডার তৈরি — ফেসবুক পেজ বা ফোনে আসা অর্ডারও একই সিস্টেমে তোলা
- অর্ডারে ইন্টারনাল নোট — স্টাফদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য
ইউজার রোল ও পারমিশন: কে কী দেখবে
ইউজার রোল মানে প্রত্যেক স্টাফ শুধু নিজের কাজের অংশটুকু দেখতে ও বদলাতে পারবেন। মালিক ছাড়া আর কারো হাতে পুরো অ্যাক্সেস থাকা উচিত নয় — এটা নিরাপত্তা এবং জবাবদিহি দুটোর জন্যই জরুরি।
| রোল | সাধারণত যা করতে পারেন | যা করতে পারেন না |
|---|---|---|
| Admin (মালিক) | সবকিছু — ইউজার তৈরি, সাইট সেটিংস, পেমেন্ট ও কুরিয়ার API সেটিংস, সব রিপোর্ট | — |
| Manager | প্রোডাক্ট, অর্ডার, স্টক, কুপন এবং বেশিরভাগ রিপোর্ট | ইউজার তৈরি বা মোছা, পেমেন্ট গেটওয়ে সেটিংস |
| Order Staff | অর্ডার দেখা, কনফার্ম, স্ট্যাটাস বদল, কুরিয়ারে পাঠানো | প্রোডাক্টের দাম বদল, রেভিনিউ রিপোর্ট দেখা |
| Product/Inventory Staff | প্রোডাক্ট যোগ ও এডিট, স্টক আপডেট | অর্ডার ডিলিট, আর্থিক রিপোর্ট |
| Accountant | সেলস ও রেভিনিউ রিপোর্ট দেখা ও এক্সপোর্ট | প্রোডাক্ট বা অর্ডার বদল |
এটা একটা উদাহরণ মাত্র। আসল সুবিধা হলো নির্দিষ্ট কয়েকটা রোলে আটকে না থেকে কাস্টম পারমিশন — অর্থাৎ আপনি নিজেই ঠিক করবেন কোন রোল কোন মেনু দেখবে আর কোন কাজ করতে পারবে। তাহলে ব্যবসা বড় হলে নতুন রোল যোগ করতে আবার ডেভেলপারের কাছে যেতে হবে না।
কোনো স্টাফ চাকরি ছেড়ে দিলে সাথে সাথে তার অ্যাকাউন্ট বন্ধ (deactivate) করুন — ডিলিট নয়, যাতে তার আগের কাজের রেকর্ড থেকে যায়। প্রত্যেককে আলাদা লগইন দিন; একটা পাসওয়ার্ড সবাই মিলে ব্যবহার করবেন না।
অ্যাডমিন লগইন সুরক্ষিত রাখার বিস্তারিত নিয়ম পাবেন ই-কমার্স ওয়েবসাইট সিকিউরিটি চেকলিস্ট-এ।
অ্যাক্টিভিটি লগ ও Excel/CSV এক্সপোর্ট
অ্যাক্টিভিটি লগ রেকর্ড রাখে কে, কখন, কী বদলেছেন; আর এক্সপোর্ট ফিচার দিয়ে রিপোর্ট Excel বা CSV ফাইলে নামিয়ে নিজের কাছে রাখা যায়। দুটোই ছোট ফিচার মনে হলেও সমস্যার সময় সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে।
অ্যাক্টিভিটি লগে যা রেকর্ড হওয়া উচিত
- কে কখন লগইন করেছেন (সম্ভব হলে IP ঠিকানাসহ)
- প্রোডাক্টের দাম বা স্টক কে বদলেছেন — আগের ও পরের মান
- অর্ডারের স্ট্যাটাস বদল, এডিট বা ডিলিট
- ডিসকাউন্ট ও কুপন তৈরি বা পরিবর্তন
- ইউজার ও সেটিংসে পরিবর্তন
ধরুন ভুল করে একটা প্রোডাক্টের দাম কমে গেল আর সেই দামে কয়েকটা অর্ডার চলে এলো। লগ থাকলে কয়েক মিনিটে বের করা যায় কে, কখন বদলেছেন। লগ না থাকলে শুধু অনুমান আর অযথা সন্দেহ।
Excel/CSV এক্সপোর্ট
অর্ডার, কাস্টমার, প্রোডাক্ট ও সেলস রিপোর্ট — সবগুলো তারিখ দিয়ে ফিল্টার করে Excel বা CSV-তে নামানো যাওয়া উচিত। এতে হিসাবরক্ষককে তথ্য দেওয়া সহজ হয়, নিজের মতো বিশ্লেষণ করা যায়, আর ভবিষ্যতে অন্য সিস্টেমে যেতে চাইলেও নিজের ডেটা নিজের হাতে থাকে। অনেক প্রোডাক্ট থাকলে CSV দিয়ে একসাথে প্রোডাক্ট ইমপোর্ট করার সুবিধা আছে কিনা সেটাও জিজ্ঞেস করে নিন।
ডেভেলপারকে যা জিজ্ঞেস করবেন ও কোটেশনে যা লেখাবেন
"অ্যাডমিন প্যানেল থাকবে" — কোটেশনে শুধু এই এক লাইন যথেষ্ট নয়। কোন কোন রিপোর্ট থাকবে, কয়টা রোল, এক্সপোর্ট আছে কিনা — নাম ধরে লিখিয়ে নিন, যাতে পরে "এটা আলাদা ফিচার, আলাদা চার্জ" শুনতে না হয়।
- উপরের ৯টি রিপোর্টের কোনগুলো থাকছে? প্রতিটিতে তারিখ ফিল্টার আছে কি?
- রোল কি নির্দিষ্ট, নাকি কাস্টম পারমিশন সেট করা যাবে? কতজন ইউজার যোগ করা যাবে?
- অ্যাক্টিভিটি লগ আছে কি? কতদিনের লগ সংরক্ষিত থাকবে?
- কোন কোন রিপোর্ট Excel/CSV-তে এক্সপোর্ট হবে?
- লো-স্টক অ্যালার্ট এবং সাইজ/কালার অনুযায়ী আলাদা স্টক আছে কি?
- মোবাইল থেকে অ্যাডমিন প্যানেল ঠিকমতো চালানো যায় কি?
- কাজ শুরুর আগে একটা ডেমো অ্যাডমিন প্যানেল দেখা যাবে কি?
- পরে নতুন রিপোর্ট লাগলে খরচ কীভাবে ঠিক হবে?
লঞ্চের আগে নিজে কয়েকটা টেস্ট অর্ডার দিয়ে পুরো প্রক্রিয়া চালিয়ে দেখুন — অর্ডার আসা, কনফার্ম, কুরিয়ারে পাঠানো, ক্যানসেল — তারপর মিলিয়ে দেখুন রিপোর্টে সংখ্যাগুলো ঠিক আসছে কিনা।
EOMS BD যেভাবে করে: ১৫ বছর ধরে ই-কমার্স সিস্টেম বানানোর অভিজ্ঞতা থেকে আমরা অ্যাডমিন প্যানেল ও রিপোর্টকে ওয়েবসাইটের মূল অংশ হিসেবেই ধরি। একটি সাম্প্রতিক বাস্তব কোটেশনে অ্যাডমিন প্যানেল, রিপোর্ট, পেমেন্ট গেটওয়ে ও কুরিয়ারসহ পুরো ই-কমার্স সাইটের প্রথম বছরের মোট খরচ ছিল ৳৩৮,১০০ — তবে চূড়ান্ত দাম ফিচার, প্রোডাক্ট সংখ্যা, ডিজাইন ও ইন্টিগ্রেশনের উপর নির্ভর করে। লঞ্চের সময় অ্যাডমিন ক্রেডেনশিয়াল, ডকুমেন্টেশন, সোর্স কোড ও ডাটাবেস আপনার হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে নতুন রিপোর্ট বা ফিচার লাগলে স্কোপ অনুযায়ী সাধারণত ৳৫০০–৳৫,০০০ লাগে, এবং কাজ শুরুর আগেই দাম জানিয়ে দেওয়া হয়। খরচের পুরো হিসাব দেখুন ই-কমার্স ওয়েবসাইটের মোট খরচ পেজে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ছোট অনলাইন শপের জন্যও কি এতগুলো রিপোর্ট দরকার?
শুরুতে প্রতিদিন সবগুলো রিপোর্ট দেখার দরকার নেই, কিন্তু সিস্টেমে থাকা দরকার। মোট বিক্রি, অর্ডার ও লো-স্টক রিপোর্ট প্রথম দিন থেকেই কাজে লাগে, বাকিগুলো ব্যবসা বাড়লে কাজে আসে। পরে যোগ করার চেয়ে শুরুতেই রাখা সাধারণত সহজ ও সাশ্রয়ী।
ফেসবুক পেজ বা ফোনে আসা অর্ডারও কি অ্যাডমিন প্যানেলে রাখা যায়?
হ্যাঁ, যদি অ্যাডমিন প্যানেলে ম্যানুয়াল অর্ডার তৈরির সুবিধা থাকে। তাহলে সব জায়গার অর্ডার এক সিস্টেমে থাকে, স্টক ঠিক থাকে এবং রিপোর্টে পুরো বিক্রির হিসাব আসে। ডেভেলপারকে আগেই এই ফিচারটি চেয়ে নিন।
স্টাফকে অ্যাডমিন প্যানেলের অ্যাক্সেস দেওয়া কি নিরাপদ?
রোলভিত্তিক পারমিশন থাকলে নিরাপদ। প্রত্যেককে আলাদা লগইন দিন এবং শুধু দরকারি অংশের অনুমতি দিন — যেমন অর্ডার স্টাফ দাম বদলাতে বা আর্থিক রিপোর্ট দেখতে পারবেন না। অ্যাক্টিভিটি লগ চালু রাখুন এবং কেউ চলে গেলে সাথে সাথে তার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করুন।
অ্যাডমিন প্যানেল কি মোবাইল থেকে চালানো যায়?
ভালোভাবে বানানো অ্যাডমিন প্যানেল মোবাইল ব্রাউজারেও চালানো যায়, যদিও বড় রিপোর্ট দেখতে কম্পিউটার বেশি সুবিধাজনক। অনেক উদ্যোক্তা চলার পথে মোবাইল থেকে অর্ডার কনফার্ম করেন, তাই কাজ শুরুর আগে ডেমো প্যানেল মোবাইলে খুলে দেখে নিন।
পরে নতুন রিপোর্ট যোগ করতে কত খরচ হয়?
এটা রিপোর্টের জটিলতার উপর নির্ভর করে, তাই কাজ শুরুর আগে ডেভেলপারের কাছ থেকে লিখিত দাম নিন। EOMS BD-তে নতুন ফিচার বা রিপোর্ট স্কোপ অনুযায়ী সাধারণত ৳৫০০ থেকে ৳৫,০০০ এর মধ্যে হয় এবং কাজের আগেই দাম জানানো হয়।
অ্যাডমিন প্যানেলের সব ডেটা কি আমার নিজের?
হওয়া উচিত। সোর্স কোড ও ডাটাবেস আপনার নামে হস্তান্তর করার কথা কোটেশন বা চুক্তিতে লিখিয়ে নিন, আর রিপোর্টগুলো Excel/CSV-তে এক্সপোর্টের সুবিধা রাখুন। তাহলে ভবিষ্যতে ডেভেলপার বা সিস্টেম বদলালেও আপনার অর্ডার, কাস্টমার ও বিক্রির ইতিহাস হারাবে না।